প্ৰথম খবর

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক ভাতা বিষয়ে অন্যদের ‘হাডান’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন

By Master

November 13, 2020

সামাজিক ভাতা পাওয়ার তালিকা থেকে বহু মানুষ বাদ পড়েছেন সম্প্রতি ত্রিপুরায়।

মুখ্যমন্ত্রী আজ বলেছেন, এখন প্রচার চলছে ভাতা তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া হয়েছে বলে। নাম বাদ দেয়া হয়েছে, কাগজপত্র সব মিলিয়ে আবার নতুন করে ভাতা দেয়া হবে। যারা এসব বলছেন তাদের জিজ্ঞাসা করা, “ঠিক আছে বিপ্লব দেব কেটে দিয়েছে, তুমি দিতে পারবে? পারলে বলো। আগুন লাগানোর জন্য কেন এসেছো? মার চেয়ে মাসির দরদ বেশি।” “আমি পুরো জনতা, ত্রিপুরার জনতার কাছে অ্যাপিল করব, যখনই বলবে তোমাদের তো ভাতা কেটে দিয়েছে, দিল না, ওদের কাছ থেকে চাওয়া, দিয়ে দিন। পারবেন, আপনারা দিতে। হাডানে আছে আপনার”, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ধলাই জেলার আমবাসায় ইন্দো-জার্মান প্রকল্পের দ্বিতীয় ভাগের আনুষ্ঠানিক শুরু করেছেন বিপ্লব দেব। সেখানেই বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

আন্দোলনের নামে চল্লিশ বছর ত্রিপুরাকে রুখে দেবার রণ কৌশল তৈরি করা হয়েছিল। অফিসে কাজ না করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কোনও অফিসার কাজ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হত, বলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এখন মানুষ আর স্ট্রাইকে বিশ্বাস করেন না। এখন মানুষ আর আন্দোলনে বিশ্বাস করেন না। এখন মানুষ রাস্তায় নামেন, যখন নরেন্দ্রভাই মোদি দেশ জুড়ে মানুষের রায় পায়, তখন মানুষ আনন্দে রাস্তায় নামেন। আজ আমি আগরতলা থেকে আসার সময় দেখেছি, ঢাক-ঢোল নিয়ে মানুষ মিছিল করছেন। কীসের জন্য? দেশব্যাপী যে বাই-ইলেকশন হয়েছে, বিহারে ইলেকসন, সেখানে মোদির জিত হয়েছে, তার জন্য নেমেছেন। আনন্দের জন্য।”

ত্রিপুরায় গত পনের দিনে আট হাজার সরকারি চাকরি দেবার ঘোষণা হয়েছে। যা রাজ্যের জন্য রেকর্ড। আগে কখনও হয়নি। গত পৌনে তিন বছরে ত্রিপুরায় ১৭-১৮ হাজার সরকারি চাকরি হয়েছে বা চাকরি দেবার প্রসেসিং চলছে, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

২০০৯ সালে ইন্দো জার্মান ডেভলাপমেন্ট কোপারেসন প্রকল্প শুরু হয়েছিল ত্রিপুরায়। বন সংরক্ষণ, জৈব বৈচিত্র্য রক্ষা, এবং বনকে ভিত্তি করে আর্থ সামাজিক অবস্থার মান উন্নয়ন, এটাই এই প্রকল্পের মূল কথা। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হবার পর, এদিন শুরু হল দ্বিতীয় ধাপ। চলবে আগামী সাত বছর। ২৮০ কোটি টাকা খরচ হবার কথা। ধলাই এবং উত্তর জেলার ১৯১ টি গ্রামে চলবে এই প্রকল্পের কাজ।

ত্রিপুরায় ভাতা তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন আপত্তি জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই। বিরোধীরাও।

ত্রিপুরায় বিজেপি জোট সরকারের শরিক আইপিএফটি গত কয়েকমাসে দুই বার ধর্মঘট ডেকেছে।

কাঞ্চনপুরে রিয়াং শরনার্থীদের পুনর্বাসন দেয়ার ইস্যু নিয়ে ধর্মঘট হয়েছে।

বই ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ডেকে ছিলেন। ত্রিপুরায় বই-ব্যবসায়ীরা অন্তত ২৫ বছরে ধর্মঘট করেননি।

বিজেপি’র যুবমোর্চা বিগত বামফ্রন্ট আমলে নিহতদের জন্য বিচার দাবি করে পথে নেমেছে, পুলিশের সদর দফতরে গিয়ে ডেপুটেসন দিয়েছে। দক্ষিণ ত্রিপুরায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে রাস্তায় ধর্না দিয়ে বিজেপি এসপি’র কাছে ডেপুটেসন দিয়েছে কিছুদিন আগে। তার আগে আগরতলায় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেসনের কাজ নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল বিজেপি।

রিপাবলিক টিভি’র এডিটর গ্রেফতার হওয়ার পরেও রাস্তায় নেমেছে বিজেপি।

সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসার সাথে যুক্তরা একদিন অল্প সময়ের জন্য আগরতলায় রবীন্দ্রভবনের সামনে রাস্তা অবরোধ করেছিলেন।

দুর্গা পূজার সময়ে আগরতলা থেকে কয়েকদিন বেসরকারী যাত্রী গাড়ি চালানো হয়নি। পরে একদিন ডেপুটেসন দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। চন্দ্রপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি বন্ধ ছিল এই সপ্তাহে। তাদের অভিযোগ ছিল, স্যান্ডের সামনে থেকেই প্রাইভেট গাড়ি যাত্রী তুলে নিয়ে যাচ্ছে, দফতরে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হয়নি। লকডাউন পর গেরুয়াপন্থী সংগঠনও অটোরিক্সা-টমটম শ্রমিকদের জন্য ভাতা চেয়ে ডেপুটেসন দিয়েছে।

এই সপ্তাহেই এ ডি নগরে একটি কারখানা লক-আউট হওয়ায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, শ্রম দফতরে, মুখ্যমন্ত্রী-উপমুখ্যমন্ত্রীকে তারা আগেই তাদের বিষয় জানিয়েছেন।

টেট পাশ করেছেন, এমন মানুষেরা মহাকরণ অভিযান করেছেন। ‘১০৩২৩’ শিক্ষকরা মহাকরণ অভিযানসহ লাগাতর আন্দোলন করে যাচ্ছেন। সরকারি চাকরি না পাওয়া ডাক্তাররা মুখ্যমন্ত্রীর দেখা না পেয়ে সংবাদ মাধ্যমে তাদের দাবি রেখেছেন।

বিরোধীরা নানা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। পুলিশ সেসব আটকে দিয়েছে নিয়মিত।

এমনকী সাংবাদিকরাও পথে নেমে ধর্না দিয়েছেন। কালো ব্যাজ পরেছেন।

২০১৭ সালে একদিনে বার হাজারের বেশি অশিক্ষক পদে সরকারি চাকরির ঘোষণা হয়েছিল। তার ঠিক আগেই একসাথে ১৫ হাজার শিক্ষক পদের ঘোষণা হয়েছিল, যদিও টেট, ইত্যাদি পাশ করা এত প্রার্থী পাওয়া যায়নি। অশিক্ষক পদের চাকরি আদালতের নির্দেশে আটকে যায়, পরে আদালতের নিষেধ উঠে গেলেও, বিজেপি জোট সরকার আর এই পদগুলিতে নিয়োগের উদ্যোগ নেয়নি।