নিরোর বেহালা বাজে !

হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ার পরেও এক মা-কে সন্তানের জন্ম দিতে হয়েছে খোলা জায়গায়, হাসপাতাল বিল্ডিং’র সামনের চাতালে। ত্রিপুরার সবচেয়ে বড় শিশু এবং প্রসূতি হাসপাতাল , আইজিএম হসপিটালে, বৃহস্পতিবার রাতে।

করোনা পজিটিভ ! ফলে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি হাসপাতালের ভেতরে। কোভিড পেসেন্টের জন্য ডেডিকেটেড জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি ছিল না তখন।

খোলা চাতালে শিশু এল পৃথিবীতে, এবং সেটা হাসপাতাল চত্বরে !

হাসপাতাল, ইত্যাদি এই চূড়ান্ত সময়ে কাজে না এলে, ঠিক কখন তার প্রয়োজন জরুরি হয়ে উঠবে! ডেডিকেটেডে কোভিড হসপিটাল, সেটি কি অলঙ্কার যেন ! এসব প্রশ্ন উঠে আসছেই।

শিশু খোলা জায়গায় জন্মের পর , মা-শিশুকে এই হাসপাতালেই নেয়া হয়েছে।

 

গোমতী জেলা হাসপাতালের দরজায়  শ্যামলেন্দু ভৌমিক নামে এক সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন সদস্য বাইরে মারা গেছেন চিকিৎসার অপেক্ষায় থেকে। কোভিড টেস্ট, জেলা হাসপাতালে সেরকম রোগীর জন্য আইসিইউ নেই, ইত্যাদি কত কী ! রোগীর তখন অক্সিজেনের দরকার ছিল।

 

রাজ্যের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে নবজাতকের কোভিড টেস্ট করাতে গিয়ে প্রাণ গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত করার নির্দেশ হয়েছে ।

 

উত্তরপ্রদেশে এবং অন্য রাজ্যেও গর্ভবতী মায়েরা হাসপাতালের দরজায় দরজায় ঘুরে কেউ মারা গেছেন, কেউ হাসপাতালের বাইরে রাস্তায় জন্ম দিয়েছেন সন্তানের। নয়ডার একটি ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

 

আইজিএম হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান , বিজেপি বিধায়ক দিলিপ দাস, যিনি নিজেও একজন নামী প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এমন হয়েছে।

হাসপাতালে ভয় !

করোনা পরিস্থিতিতে তাহলে কি হাসপাতালেও পরিসেবা পাওয়া যাবে না ?

 

গতকাল রাতেও একটি জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে আসা রোগী সারারাত হাসপাতালের চত্বরে পড়ে রইলেন, চিকিৎসা ছাড়াই।

এমনই যদি ‘ভ য়’ , এত যে ‘সাবধানতা’, তবু ত্রিপুরাই কোভিড মৃত্যু হারে উত্তরপূর্বাঞ্চলে শীর্ষে ।

নিরোর বেহালা বাজে !

 

 

COMMENTS